কমপিউটার মাদারবোর্ডের সংক্ষিপ্ত পরিচয়

মাদারবোর্ড একটি সার্কিট যার মাধ্যমে প্রসেসর, মেমোরি, এক্সপানশন কার্ড সহ আরও বিভিন্ন যন্ত্রাংশ সংযুক্ত থাকে। একটি মাদারবোর্ড এর মূলত নিম্ললিখিত জিনিসগুলো গুরুত্বপূর্ণ ।
১) সকেট
২) চিপসেট
৩) বায়োস

১) সকেট -
সকেট হচ্ছে একটি ইন্টারফেস যার সাহায্যে প্রসেসর কে মাদারবোর্ডের সাথে যুক্ত করা হয়। বিভিন্ন মডেলের প্রসেসরের জন্য বিভিন্ন সকেট ব্যবহার হয়। দুই ধরণের সকেট হয়ে থাকে। একটা হল ZIF আর আরেকটি হল LGA. Land Grid Array কে LGA বলা হয়। Zero Insertion Force কে ZIF বলে।। মূলত সব মাদারবোর্ড কোম্পানিই প্রায় সব ধরনের সকেট এর মাদারবোর্ড তৈরি করে থাকে। কোন নির্দিষ্ট প্রসেসররে জন্য যে সকেট লাগে, তা সাধারনত সেই প্রসেসর যে কোম্পানি তৈরি করেছে তারাই তা তৈরি এবং অন্য দের দিয়ে থাকে। যেমন ইন্টেল Core i3, i5, i7 সিরিজ এর জন্য যে সকেট লাগে তা ইন্টেল তৈরি করে ও তারপর মাদারবোর্ড কোম্পানি তা ইন্টেল থেকে কিনে নিয়ে তাদের মাদারবোর্ড এ ব্যাবহার করে। এখন LGA সকেট সবচেয়ে বেশি ব্যাবহৃত হয়। বিভিন্ন প্রসেসরের জন্য বিভিন্ন সকেট আছে। যেমন পেন্টিয়াম প্রসেসরের সকেট হল LGA 771. কোর টু ডুও এর সকেট LGA 775. আর কোর সিরিজের প্রসেসর বসানো হয় LGA 1156 সকেটে। বিভিন্ন সকেটের বাস স্পীড আলাদা আলাদা হয়ে থাকে।

ZIF সকেট -












LGA সকেট -








কোর টু ডুও সকেট -












সাধারণত একটা বোর্ড এ একটাই প্রসেসর থাকে। তবে সম্প্রতি একাধিক প্রসেসর সকেট-যুক্ত বোর্ড পাওয়া যায়।


২) চিপসেট -
কমপিউটার এর চিপ হচ্ছে খুবই ছোট আকারের ইলেক্ট্রনিক সার্কিট। সিলিকন সেমিকনডাকটর ও ট্রানজিসটর একসাথে করে এই চিপ বানানো হয়। চিপসেট হচ্ছে বিশেষ কিছু চিপের সমন্বয় যা এক্সপানশন কার্ড গুলতে থাকে এবং তা ইলেক্ট্রনিক ডাটা সিগনাল পরিবহনের কাজ করে। চিপসেট বিভিন্ন রকমের হয়ে থাকে যা একটি মডেল নাম্বার দ্বারা সূচিত করা হয়।অর্থাত চিপসেট হল যে পেরিফেরাল প্রসেসর এবং অন্যান্য ডিভাইস এর সাথে সামঞ্জস্য রক্ষা করে চলে। আধুনিক আর্কিটেকচার অনুযায়ী মাদারবোর্ড চিপকে দুইটি অংশে ভাগ করা হয়। একটাকে বলা হয় নর্থব্রিজ আরেকটা সাউথব্রিজ।

নর্থব্রিজ:
এটা মাদারবোর্ড এর হাই-স্পীড ডিভাইসগুলোকে কন্ট্রোল করে। অর্থাৎ প্রসেসর, র‍্যাম, ভিডিও প্রসেসর এর সাথে যুক্ত থাকে। একে অনেক সময় ‘মেমরি কন্ট্রোলার হাব’ও বলা হয়। আপনারা মাদারবোর্ডে যে হিটসিঙ্ক দেখতে পান তার নিচের চিপটাই নর্থব্রিজ। এটা একই সাথে প্রসেসর, ভিডিও আর র‍্যামকে কন্ট্রোল করে। বিল্ট-ইন গ্রাফিক্স কার্ডে এটাই ভিডিও প্রসেসর হিসেবে কাজ করে। আধুনিককালে নর্থব্রিজের সবটুকু অংশ প্রসেসরে ইন্টিগ্রেট করা হয়েছে। তাই মাদারবোর্ড এ বাকি যে চিপ থাকে সেটা সাউথব্রিজ।

সাউথ ব্রিজ:
মাদারবোর্ড এর অন্যান্য স্লো-স্পীড ডিভাইস যেমন বায়োস, পিসিআই বাস, ইউএসবি,  স্টোরেজ ডিভাইস, ক্লক, অডিও ডিভাইস, এনআইসি ইত্যাদি কন্ট্রোল করে যে চিপ সেটা সাউথ ব্রিজ। আপনারা মাদারবোর্ড এ হিটসিঙ্ক ছাড়া আরেকটি যে বড় চিপ দেখতে পান সেটাই সাউথ ব্রিজ।

নর্থব্রিজ আর সাউথব্রিজের ছবি –



মাদারবোর্ড এ বিভিন্ন মডেলের চিপসেট লাগানো থাকে। 910, 915, 945, 965, 975, P31, P35, G31, G33, G35, X38, X48, P43, P45, G31, G33, G41, G43, G45, H55, H57, H61, H67, X79 ইত্যাদি হল বিভিন্ন চিপসেট। আলাদা আলাদা চিপসেটের বাস, পোর্ট, পিসিআই স্লট ইত্যাদি এর ধারণক্ষমতা আলাদা আলাদা হয়।

 ৩) বায়োস -

বেসিক ইনপুট আউটপুট সিস্টেম বা বায়োস হচ্ছে কমপিউটার এর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ যা কমপিউটার এর সকল সিস্টেম ইনফরমেশন সংরক্ষিত করে রাখে। যেমন প্রসেসর মডেল, স্পিড, RAM এর পরিমান, হার্ডডিস্ক এর মডেল, সহ আরও অনেক কিছু যা হার্ডওয়্যার পরিবর্তন করলেও নিজে নিজে তার তালিকা তৈরি করে নেয়। বর্তমানে নতুন মাদারবোর্ড এর বায়োস সকল রকমের Overclock করার ব্যাপারে সহায়তা করে। তাছাড়া এতে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রনের ব্যাবস্থা আছে যাতে করে একটি নির্দিষ্ট তাপমাত্রার উপরে পিসি কাজ বন্ধ করে দেয়। তাছাড়া বর্তমানে গিগাবাইটের ডুয়াল বায়োস সমৃদ্ধ মাদারবোর্ড এ একটি সেকেন্ডারি বায়োস আছে যা প্রথমটি নষ্ট হয়ে গেলেও পিসি কে সচল রাখে।

ভোলাটাইল মেমরি: 
ভোলাটাইল মেমরি মানে হল যে মেমরি পাওয়ার চলে গেলে মুছে যায়। RAM বা Random Access Memory  হল ভোলাটাইল মেমরি। RAM দুই ধরণের হয়ে থাকে। এখন D-RAM বা ডাইনামিক র‍ন্ডম অ্যাক্সেস মেমরি বেশি ব্যাবহৃত হয়। এটা প্রসেসর এর কার্যক্ষেত্র বা ড্রাফট পেপারের মত কাজ করে। মেমরি লাগানোর জন্য যে স্লট থাকে তাকে বলে DIMM বা Dual In-line Memory Module. আধুনিক র‍্যাম বা মেমরি মডিউলে সার্কিট বোর্ডের দুপাশে মেমরি চিপ বসানো থাকে বলে এরকম বলা হয়। মেমরি দেখতে এরকম -

নন-ভোলাটাইল মেমরি:
পাওয়ার চলে গেলেও যেসব ডিভাইস স্থায়ীভাবে ডাটা রেখে দিতে পারে তাদের নন-ভোলাটাইল মেমরি বলে। হার্ডডিস্ক, অপ্টিকাল ড্রাইভ, ফ্ল্যাশ ড্রাইভ ইত্যাদি হল এরকম মেমরির উদাহরণ।

সিস্টেম ক্লক:
মাদারবোর্ড এ একটা আইসি থাকে যেটা থেকে নির্দিষ্ট সময় পর পর সিগনাল উৎপন্ন হয়। আপনারা জানেন যে ইলেক্ট্রনিক্স ডিভাইস গুলো কাজ করে স্পন্দনের সাহায্যে। এই টাইম সিগনাল জেনারেটর পিসি চালু হওয়ার সময় নির্দিষ্ট মানের সিগনাল উৎপন্ন করে দেয়। তবে এই স্পন্দনকে পরিবর্তন করে আরো বেশী পারফরমেন্স পাওয়া সম্ভব যাকে বলে ওভারক্লকিং।

এক্সপেনশান স্লট:
মাদারবোর্ড এ বিভিন্ন পেরিফেরাল যুক্ত করার জন্য বেশ কয়েকটি পিসিআই বা পিসিআই-ই স্লট থাকে। এগুলোতে ল্যান কার্ড, সাউন্ড কার্ড, ভিডিও কার্ড, টিভি কার্ড, মডেম, ওয়াই-ফাই কার্ড ইত্যাদি লাগানো যায়। এখনকার মাদারবোর্ডের পিসিআই স্লটগুলো এরকম -

পাওয়ার কানেক্টর:
সমস্ত সিস্টেম চালু রাখতে শক্তির দরকার। পাওয়ার কানেক্টরের মাধ্যমে পাওয়ার সাপ্লাই ইউনিট থেকে মাদারবোর্ড ও এর বিভিন্ন অংশ বিদ্যুৎ পায়। সাধারণত ২০ পিন বা ২৪ পিন বিশিষ্ট সকেটের মাধ্যমে মাদারবোর্ড পাওয়ার পায়।


মাদারবোর্ডের বিভিন্ন পোর্ট-


সাটা:
Serial Advanced Technology Attachment থেকেই সাটা এর নামকরণ। খুব দ্রুতগতি সম্পন্ন পোর্ট যার সাথে হার্ডডিস্ক, ডিভিডি বা সিডি ড্রাইভ ইত্যাদি লাগানো থাকে। অনেকদিন ধরে সাটা ২.০ ব্যাবহৃত হয়ে আসলেও এখন সাটা ৩.০ যুক্ত মাদারবোর্ড পাওয়া যাচ্ছে। সাটা ২.০ এর গতি ৩ গিগাবিট/সেকেন্ড আর সাটা ৩.০ এর গতি ৬ গিগাবিট/সেকেন্ড। অনেক মাদারবোর্ডে ই-সাটা (External SATA) নামের আরেকটি পোর্ট থাকে। এটা আসলে সাটা পোর্টের একটা ইন্টারফেস যেটা কেসিংএর বাইরে থাকে এবং যেকোন সাটা হার্ডডিস্ক বা সিডি/ডিভিডি ড্রাইভ লাগিয়ে একই গতিতে কাজ করা যায়। কিছু ল্যাপটপে ই-সাটার সাথে ইউএসবি কম্বাইন করে পোর্ট বানানো থাকে।

প্যারালাল-এটিএ:
Parallel ATA থেকে পাটা নামের উৎপত্তি। প্যারালাল পদ্ধতিতে কাজ করে বলে এর গতি অনেক কম, মাত্র ১৩৩ মেগাবিট/সেকেন্ড। আর বড় সমস্যা,একটি পোর্টে সর্বোচ্চ ২টা ডিভাইস লাগানো সম্ভব। এর সকেট ৪০ পিনের। ওয়েস্টার্ন ডিজিটালের গবেষণার ফসল এই পোর্ট যে কেবল দিয়ে লাগানো হয় তার নাম আইডিই বা Integrated Drive Electronics. SATA আসার পর থেকে এর ব্যাবহার কমে যায়।

ইউএসবি:
Universal Serial Bus নামে পরিচিত এই পোর্ট খুব বেশি জনপ্রিয় কারণ এই বাসে এমুলেট করে ডিস্ক, ফ্ল্যাশ স্টোরেজ, মডেম, ল্যান, সাউন্ড কার্ড ইত্যাদি অসংখ্য ডিভাইস কম্পিউটারে যুক্ত করা সম্ভব। এর তিনটি ভার্সন রয়েছে। ইউএসবি ১.১ এর গতি ১২মেগাবিট/সেকেন্ড, ইউএসবি ২.০ এর ৪৮০মেগাবিট/সেকেন্ড, আর ইউএসবি ৩.০ এর গতি ৩গিগাবিট/সেকেন্ড।

সিরিয়াল পোর্ট ও প্যারালাল পোর্ট:
আগে এই পোর্ট গুলোর ব্যাবহার ছিল। প্রিন্টার, ক্যামেরা, মডেম, মাউস ইত্যাদি পিসি এর সাথে কানেক্ট করতে এই পোর্টগুলো ব্যাবহার করে হত।

পিএস/টু পোর্ট: 
 আইবিএম কম্পিউটার এর প্রবর্তিত Personal System/2 নামের এই পোর্টের সাহায্যে মাউস ও কিবোর্ডকে মাদারবোর্ড এর সাথে যুক্ত করা হয় এবং সাউথব্রিজ তাদের কন্ট্রোল করে। এটা ৬ পিন বিশিষ্ট হয়।

এছাড়াও মাদারবোর্ড এ ইন্টিগ্রেটেড সাউন্ড বা নেটওয়ার্ক ডিভাইস থাকলে এদের আউটপুট পোর্ট এবং প্রসেসর আর সিস্টেম কুলিং ফ্যানের পাওয়ার সকেট থাকে ।

একটি ভালো গ্রাফিক্স কার্ড কিনতে হলে কি কি জানা দরকার?

একটা ভালো গ্রাফিক্স কার্ড কেনা সহজ নয়। আসুন, কিছু তথ্য জেনে নেই যেগুলো আশা করা যায় আপনাকে ভালো গ্রাফিক্স কাড বাছাই করতে সাহায্য করবে।


graphics card
মেমোরিই  : আপনার এমন একটি কার্ড অবশ্যই বাছাই করা উচিত যাতে মেমোরি তথা র‌্যাম আছে অনেক। আপনি বর্তমান বাজার অনুযায়ী ৫১২ মেগাবাইট অথবা ১ গিগাবাইট মেমোরি যুক্ত কার্ড কিনতে পারেন। তবে সবসমই মনে রাখবেন, মেমোরিই সব নয়। গ্রাফিক্স কার্ডের বাজারে এমন অনেক কার্ড পাবেন যাদের মেমোরি অনেক বেশি কিন্তু কার্য ক্ষেত্রে সেরকম পারফরমেন্স পাওয়া য়ায়না। তবে বেশি মেমোরি সবসময়ই বাড়তি সুবিধা দিয়ে থাকে।

গ্রাফিক্স প্রসের : মেমোরি অবশ্যই অনেক গুরুত্বপুর্ণ বিষয়। তবে একটি গ্রাফিক্স কার্ডের হার্ট বা মস্তিস্ক যাই বলুন, সবই হলো তার চিপ বা প্রসেসর। এটি-ই সবধরনের থ্রিডি গ্রাফিক্স রেন্ডার করে থাকে। বাজারে দুটি কোম্পানী আছে যারা এই চিপ গুলো বানাবার ক্ষেত্রে সবার চেয়ে এগিয়ে। ATI Radeon ও nVidia। কিন্তু আপনার প্রয়োজন মেটাবার জন্যে কেবল এটুকুই জানা যথেষ্ট নয় যে কার্ড ATI Radeon অথবা nVidia চিপ দিয়ে তৈরি। আপনাকে আরও কিছু জিনিস খেয়াল করতে হবে যেমন, GT, GS, GTX, XT, XTX ইত্যাদি। এই ইনিশিয়াল গুলো শুধুমাত্র অক্ষর নয় বরং তারা কার্ডের অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এর ব্যপারে তথ্য প্রকাশ করে।

পাইপলাইন ও ক্লক-স্পীড : একটি গ্রাফিক্স কার্ড এর দক্ষতা কতটুকু হতে পারে তার একটা ধারণা আপনি পেতে পারেন এর ক্লক-স্পীড ও পাইপলাইন এর মাত্রা হিসেব করে। ব্যপারটা অনেকটা এভাবেও দেখা যায়, পারফন্মমেন্স যদি হয় একটা হাইওয়ে দিয়ে ঘন্টায় কতগুলো গাড়ি ক্রস করতে পারে তবে পাইপলাইন হবে সেই হাইওয়ের লেন। যতবেশি লেন বিশিষ্ট হাইওয়ে হবে, ততবেশি গাড়ি ঘন্টায় ওই রাস্তা দিয়ে যেতে পারবে। আর ক্লক-স্পীডের তুলনা করা যায় ওই রোডের জন্যে গাড়ির স্পীড-লিমিট দিয়ে। যতবেশি স্পীডে গাড়ি যেতে পারবে, ততবেশি পরিমান গাড়ি একক সময়ে রাস্তা ক্রস করতে পারবে। এখন, এই রাস্তা দিয়ে কতগুলো গাড়ি যেতে পারবে তা নির্ভর করবে লেন সংখ্যা ও স্পীড-লিমিট এর স্বমন্বয়ের উপরে। সেভাবেই, গ্রাফিক্স কার্ডের ক্ষেত্রেও এর পারফন্মমেন্স অনেকাংশেই নির্ভর করবে এর পাইপলাইন এর পরিমান ও কার্ডের চিপের ক্লক-স্পীডের উপর। তবে পাইপলাইন ও ক্লক-স্পীডের মাঝে তুলনা করতে গেলে দেখা যায় বেশি পাইপলাইন বিশিষ্ট কার্ডই বেশি ভালো ফলাফল দেয়। সাধারণত, প্রাথমিক লেভেলের কার্ডগুলো চারটি, মিড লেভেলের কার্ডগুলো আট থেকে বারো এবং হাই লেভেলের কার্ডগুলো ষোল বা তার থেকেও বেশি পাইপলাইন বিশিষ্ট হয়ে থাকে।

অপারেটিং সিস্টেম ও ডাইরেক্ট এক্স : গ্রাফিক্স কার্ডের পারফন্মমেন্স বেশ খানিকটা নির্ভর করে সেটা কোন প্লাটফর্মে চলছে তার উপর। আজকালকার হাই-ফাই কার্ডগুলো উইন্ডোজ সিস্টেমের মধ্যে সবচেয়ে ভালো কাজ করে ভিস্তা ও ডাইরেক্ট-এক্স ১০ সমৃদ্ধ মেশিনগুলোতে। ডাইরেক্ট-এক্স ১০ এর বিশেষ বৈশিষ্ট হলো এটি গ্রাফিক্স কার্ড ও সিস্টেম এর মধ্যে ডাটা ট্রান্সফার করে অত্যন্ত্য সাবলীল গতিতে। এছাড়াও আরও অনেক বিশেষ বিশেষ ফিচার আছে ডাইরেক্ট এক্স ১০ এর। সুতরাং কার্ড কিনবার সময় এটি ডাইরেক্ট এক্স ১০ সাপোর্টেড কিনা তা বুঝে নিন।

গ্রাফিক্স কার্ড কিনবার সবচেয়ে ভালো সময় বলে কিছু আছে? :
graphics card
হ্যা। আপনি যদি একটু প্লান করে চলেন, তবে কম দামে তুলনামূলক ভালো কার্ড বাজার থেকে কিনতে পারবেন। কি সে প্ল্যান? এটা হলো সময়। ATI Radeon ও nVidia নিজেদের মাঝে প্রতিদ্বন্দিতা ও তাদের বাজার ধরে রাখার চেষ্টায় প্রতি ১২ থেকে ১৮ মাসের মাথায় একটি করে নতুন চিপ বাজারে আনে। প্রতি চিপে আগেরটার তুলনায় বেশি ফিচার সাপোর্টেড। ফলাফল, নতুন চিপসহ কার্ডগুলো বাজারে আসা মাত্র পুরনোগুলোর দাম হুহু করে নেমে যায় অনেকখানি। ঠিক এই সময়টাতেই, নতুন রিলিজ হওয়া কার্ডগুলোর দিকে নজর না দিয়ে আপনি যদি তার আগের জেনারেশনের কার্ডগুলো ট্রাই করেন তবে লাভবান হবেন। বেশি দাম দিয়ে নতুন জেনারেশনের লো-এন্ড কার্ড না কিনে প্রায় সেই পরিমান টাকা খরচ করে আগের জেনারেশনের হাই-এন্ড কার্ড কেনাটা অনেক বেশি বুদ্ধিমানের কাজ হবে।


পাওয়ার সাপ্লাই:
graphics cardবর্তমানের গ্রাফিক্স কার্ডগুলো অত্যন্ত বেশি পরিমানে বিদ্যুৎ-এর প্রয়োজন। এখনকার একটি হাই-এন্ড কার্ড সমপূর্ণ ক্ষমতায় চলবার সময় প্রায় ৬০ থেকে ৮০ ওয়াট পরিমান বিদ্যুৎ টানতে থাকে। উপযুক্ত পাওয়ার সাপ্লাই ইউনিট না থাকলে আপনার পিসি সম্ভবত র্স্টাটই হবে না। বাজারে বর্তমানে অত্যন্ত্য দামী কিছু পাওয়ার সাপ্লাই পাওয়া যাচ্ছে। এগুলো আপনার গ্রাফিক্স কার্ডেও ক্ষুধা মেটাতে পারবে। গ্রাফিক্স কার্ড কিনবার আগে বক্সের গায়ে এর পাওয়ার ফ্যাক্টরগুলো দেখে নিন। কার্ডগুলো সাধারণত ৪০০ ওয়াট এর পাওয়ার সাপ্লাই এ ভালো রান করে থাকে।
এসব ছাড়াও, আপনি আপনার নতুন কেনা গ্রাফিক্স কার্ডকে ভালো পরিবেশে রান করাতে পারবেন কিনা তা কিনবার আগেই চিন্তা করুন। ভালো কেসিং, ভালো কুলিং সিস্টেম ও ভালো পাওয়ার সাপ্লাই ভালো গ্রাফিক্স কার্ডের জন্যে খুবই দরকারী।

কিছু ওপেন সোর্স উইন্ডোজ অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার


ওপেন সোর্সের যুগে উইন্ডোজ অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যারের ব্যবহার ক্রমেই কমে আসছে। বর্তমানে ওপেন সোর্সের দৌলতে ব্যবহারকারীরা অর্থের বিনিময়ে সফটওয়্যার না ক্রয় করে বরং ওপেন সোর্স সফটওয়্যারের দিকে ঝুঁকছে বেশি। কারণ এসমস্ত সফটওয়্যার বিনামূল্য পাওয়া যায়। ফটোশপের মত সফটওয়্যারগুলো যেমন চড়া দামে কিনতে হয় সেখানে ফটোশপের মতই বিভিন্ন ওপেন সোর্স এডিটিং সফটওয়্যারগুলো বিনামূল্য পাওয়া যাচ্ছে। উইন্ডোজ ব্যবহারকারীদের জন্য তাই কিছু ওপেন সোর্স সফটওয়্যারের কথা তুলে ধরব। এগুলোর অনেকগুলোই হয়ত অনেকে ব্যবহার করেছেন বা ব্যবহার করছেন।


১. 7-zip
7zip7-zip মূলত একটি ফাইল আর্কাইভার প্রোগ্রাম। সফটওয়্যারটি দিয়ে 7z, ZIP, GZIP, BZIP2 এবং TARফরম্যাটের ফাইলগুলো প্যাকিং এবং আন-প্যাক করা সম্ভব। তাছাড়া এটি দিয়ে RAR, CAB, ISO, ARJ, LZH, CHM, Z, CPIO,RPM, DEB এবং NSIS ফরম্যাটের ফাইলগুলোও আন-প্যাক করা যায়। এটি অত্যন্ত শক্তিশালী একটি ফাইল আর্কাইভার। সফটওয়্যারটির কম্প্রেশন রেসিও WinZip এর থেকেও অনেক বেশি। বর্তমানে এটি WinZip এর বিপরীতে প্রচুর ব্যবহার করা হচ্ছে।

২. Audacity:
Audacity
Audacity ওপেন সোর্স ভিত্তিক ফ্রি রেকর্ডিং এবং সাউন্ড এডিটিং সফটওয়্যার। সফটওয়্যারটি বহুবিধ ব্যবহার রয়েছে। সফটওয়্যারটি দিয়ে সরাসরি সাউন্ড রেকর্ডিং, কনভার্টিং ও Ogg Vorbis, MP3 এবং WAV সাউন্ড ফরম্যাট ফাইলগুলোকে সহজে এডিট করা যায়। সাউন্ড জোড়া লাগানো, কাটা, সংকুচিত করা, মিক্সিং প্রভৃতি কাজ গুলো করতে সফটওয়্যারটি পারদর্শী।


৩. Blender:
blender
3D অ্যানিমেশন তৈরীর জন্য Blender একটি মুক্ত সফটওয়্যার। সফটওয়্যারটি মডেলিং, UV আনর‍্যাপিং, টেক্সারিং, স্কিনিং, রিগিং, রেন্ডারিং এবং 3D অ্যাপ্লিকেশন তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। ব্লেন্ডার এতটাই সমৃদ্ব যে একে 3D ম্যাক্স ও মায়ার সাথে তুলনা করা হয়।


৪.ClamWin:
clamwin
ClamWin একটি ফ্রি অ্যান্টি-ভাইরাস সফটওয়্যার। সফটওয়্যারটি Windows 98/Me/2000/XP তে ব্যবহার করা যায়। ClamWin কে বিভিন্ন বাণিজ্যিক অ্যান্টি-ভাইরাস সফটওয়্যার যেমন- নরটন, ম্যাকাফির বিকল্প হিসেবে গন্য করা হয়। সফটওয়্যারটি তার বহুবিধ ফিচার দিয়ে শক্তিশালী ভাইরাস ও স্পাইওয়্যার ধরতে সক্ষম। এটি সয়ংক্রিয়ভাবে আপডেট হয় এবং মাইক্রোসফট আউটলুকে ই-মেইল অ্যাটাচমেন্টে ভাইরাস স্ক্যান করতে সহায়তা করে।


৫. eMule:
emule
eMule ওপেন সোর্স ভিত্তিক সাধারন পিয়ার-টু-পিয়ার(P2P) ফাইল শেয়ারিং টুল।

৬. Feedreader:
feedreader
Feedreader একটি মুক্ত ডেস্কটপ আরএসএস অ্যাগ্রিগেশন টুল। সফটওয়্যারটি ডেস্কটপে আপনার প্রিয় ওয়েবসাইট থেকে সয়ংক্রিয়ভাবে আপডেট নামাতে সক্ষম। এটি অবিরতভাবে বিভিন্ন ওয়েবসাইটে প্রকাশিত আর্টিকেল ডেস্কটপে শো করবে।


৭. Filezilla:
filezilla
ফাইলজিলা একটি এফটিপি ক্লায়েন্ট সফটওয়্যার। সফটওয়্যারটি FTP,SFTP,FTPS প্রটৌকলসমূহ সমর্থন করে। এটি ব্যবহার করা বেশ সহজ এবং এটি নিরাপদ এফটিপি প্রটৌকল। এর অন্যতম ফিচার হল সার্ভারে আপলোড অথবা ডাউনলোড চলাকালে রিজিউম সাপোর্ট করে।


৮. Firefox:
firefox
ফায়ারফক্স বর্তমানে বহুল ব্যবহৃত ও জনপ্রিয় মুক্ত ওয়েব ব্রাউজিং প্লাটফরম। এর সাথে নতুন করে পরিচয় করে দেওয়ার কছু নেই। বর্তমানে অনেকেই এটি ব্যবহার করছেন। প্রচুর অ্যাড-অনের সমাহার ব্রাউজারটিকে অত্যন্ত শক্তিশালী করে তুলেছে। ইন্টারনেট এক্সপোলারের চেয়েও এটি অধিক নিরাপদ ব্রাউজিংয়ের সুবিধা দেয়।


৯. GIMP:
GNU ইমেজ ম্যানিপুলেশন প্রোগ্রাম(GIMP) একটি মুক্ত গ্রাফিক্স এডিটিং সফটওয়্যার। এটি অত্যন্ত চমৎকার একটি সফটওয়্যার যা ব্যয়বহুল ফটোশপের বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত হয়। গিম্পে মোটামুটি ফটোশপের মতই কাজ করে এবং এতে অনেক ইমেজ এডিটিং অপশন রয়েছে।



১০. Inkscape:
inkscap
ইঙ্কস্পেস মুক্ত ভেক্টর গ্রাফিক্স এডিটর সফটওয়্যার। সফটওয়্যারটি এতই সমৃদ্বশালী যে একে বাণিজ্যিক সফটওয়্যার তথা Corel Draw, Adobe Illustrator, Freehand অথবা Xara X এর মত সফটওয়্যারের সাথে তুলনা করা হয়। নিজস্ব ফরম্যাট হিসেবে এরা Scalable Vector Graphics (SVG) এবং XML বেস্‌ড W3C স্টান্ডার্ড ব্যবহার করে থাকে। ওয়েব ২.০ এর বাটন,লোগো,আইকোন,ব্যানার ইত্যাদি তৈরীতেও এটি ব্যবহার করা হয়।


১১. Juice:
juice
জুস একটি ফ্রি এবং ওপেন সোর্স ভিত্তিক ক্রস-প্লাটফরম পোডকাস্ট রিসিভার অ্যাপ্লিকেশন। এটি ogg ও mp3 এর মত পোডকাস্ট মিডিয়া ফাইল ডাউনলোড করতে ব্যবহৃত হয়। জুস ব্যবহার করে পোডকাস্ট সিডিউল করা যায় এবং জুস আপনাকে নতুন পোডকাস্টের প্রাপ্যতা সম্পর্কে আপনাকে অবগত করবে। ডাউনলোডকৃত মিডিয়া ফাইলগুলো কপি হয়ে একটি ডিজিটাল প্লেয়ারে চলে আসে।


১২. OpenOffice.org:
open office
জার্মানির একটি প্রতিষ্ঠান স্টার অফিস নামক একটি সফটওয়্যার তৈরী করেছিল যা পরবর্তীতে সান মাক্রোসিস্টেম কিনে নেয় এবং ১৯৯৯ সালে বিনামূল্য মুক্ত করে। মাইক্রোসফট অফিসের মতই ফিচারগুলো ওপেন অফিসে বিদ্যমান। বর্তমানে এর বাংলা ইন্টারফেস পাওয়া যাচ্ছে। ওপেন অফিসের ডিফল্ট ফরম্যাট হল ওডিএফ। বর্তমানে এটি এতই বিস্তার লাভ করেছে যে ১১০টির অধিক ভাষায় সফটওয়্যারটি পাওয়া যাচ্ছে।


১৩. Programmers Notepad:
programmer
Programmer’s Notepad হল প্রোগ্রামাদের জন্য একটি সাধারন টেক্সট এডিটর সফটওয়্যার। কোড ফোল্ডিং, আউটলাইনিং, সিএসএস ব্যবহার করে এইচটিএমএলে এক্সপোর্ট, ওয়ার্ড র‍্যাপিং প্রভৃতি এই সফটওয়্যারটি দিয়ে করা যায়।


১৪. Sunbird:
sunbird
সানবার্ড মোজিলা ফাউন্ডেশন কর্তৃক তৈরীকৃত একটি ডেস্কটপ ক্যালেন্ডার অ্যাপ্লিকেশন।






১৫. Thunderbird:
thunderbird
থান্ডারবার্ডও মোজিলা ফাউন্ডেশন কর্তৃক তৈরীকৃত একটি ডেস্কটপ ই-মেইল অ্যাপ্লিকেশন। এটি ই-মেইল ব্যবস্থাপনাকে সহজতর ও গতিশীল করে। থান্ডারবার্ডে সহজে ইনবক্সকে ম্যনেজ করা যায়।





১৬. VLC media player: এ মুহূর্তের সবচেয়ে জনপ্রিয় মিডিয়া প্লেয়ারের মধ্যে ভিএলসি মিডিয়া প্লেয়ার একটি। এটি কেবল সর্বাধিক প্রচলিত ভিডিও ফরম্যাটগুলোকে সাপোর্ট এবং এক ফরম্যাট থেকে অন্য ফরমাটে কনভারশনই করে না, এর মধ্যে বিল্ট ইন আছে একটি ভিডিও স্ট্রিমিং সার্ভারও। এজন্য ব্যবহারকারীর প্রয়োজন হবে ভিডিও ফাইল বা ভিডিও ক্যাপচার ডিভাইস এবং অনলাইনে ভিডিও সম্প্রচার শুরুর করার জন্য কয়েকটা মাউস কিক।

ল্যাপটপ ভালো রাখতে

ল্যাপটপের ভালো রাখার জন্য নিচের ট্রিক্সগুলো ব্যবহার করুনঃ
laptop১। ল্যাপটপের ব্যাটারীর বেস্ট পারফরমেন্সের জন্যঃ
ক) ব্যাটারীতে ল্যাপটপ চালানোর সময় স্ক্রিনের ব্রাইটনেস কমিয়ে দিন।
খ) দরকার ছাড়া অন্য উইন্ডোগুলো মিনিমাইজ করে রাখুন ।
গ) ব্লু-টুথ ও ওয়াই-ফাই কানেকশন বন্ধ রাখুন ।
ঘ) হার্ডডিস্ক থেকে মুভি-গান প্লে করুন, কারন সিডি/ডিভিডি রম অনেক বেশি পাওয়ার নেয়।
ঙ) এয়ার ভেন্টের পথ খোলা রাখুন, সহজে বাতাস চলাচল করে এমন ভাবে ল্যাপটপ পজিশনিং করুন, সরাসরি সূর্যের আলোতে রাখবেন না ।
চ) সাট ডাউনের পরিবর্তে হাইবারনেট অপশন ইউজ করুন।
ছ) মাঝে মাঝে ব্যাটারীর কানেক্টর লাইন পরিস্কার করুন।
জ) অপ্রয়োজনীয় প্রোগ্রামগুলো বন্ধ করুন।
ঝ) হার্ডডিস্ক ও সিপিইউ এর মেইনটিনেন্স কোন কাজ করবেন না।
ঞ) ব্যাটারী দিয়ে ল্যাপটপ চালানো না লাগলেও ২/৩ সপ্তাহে মাঝে মাঝে ব্যাটারী থেকে চালাতে হবে, নতুবা ব্যাটারী আয়ু কমে যাবে।

২। মেমরী কম ব্যবহারের জন্য অপ্রয়োজনীয় প্রোগ্রাম/উইন্ডো মিনিমাইজ করে রাখুন।

৩। মাঝে মাঝে মেমরী ক্লিনের জন্য RamCleaner, RamOptimizer, MemMonster, Free Up Ram, SuperRam,
RamSmash, MemZilla, MemoryWasher জাতীয় সফটওয়্যার ব্যবহার করুন।
৪। মজিলা অনেক ফ্রেন্ডলি ব্রাউজার হলেও এটা অনেক মেমরি ব্যবহার করে, এখান থেকে মেমরি ব্যবহার করা কমাতে পারেন।
৫। মজিলার প্লাগইনগুলো আপডেট করুন সবসময়।
৬। আমরা অনেকেই মজিলার অনেক এক্সটেনশন ব্যবহার করি মজিলাকে সাজাতে ও অন্যান্য সুবিধা পেতে। কিছু কিছু এক্সটেনশন আছে যা সমস্যা করে পারফরমেন্সে। এসব ঝামেলাকর এক্সটেনশন পরিহার করুন।
৭। ভালো মানের এন্টিভাইরাস ব্যবহার করুন। তবে অবশ্যই নরটন এন্টিভাইরাস না, কারন সিস্টেমকে অনেক স্লো করে।
৮। মাঝে মাঝে অনলাইন থেকেও ল্যাপটপ/পিসি স্ক্যান করতে পারেন।
৯। স্পাইওয়ার মুক্ত রাখুন কারন এগুলো ব্যাকগ্রাউন্ডে রান করে সিস্টেমের পারফরমেন্সে ব্যাঘাত ঘটায়।
১০। পারফরমেন্স বাড়াতে TuneUp Utilities এবং System Mechanic ব্যবহার করুন ।
১১। নিয়মমাফিক ডিফ্রাগমেন্ট করুন।
১২। আপাতত দরকার নাই এমন প্রোগ্রাম আনইনস্টল করুন।

ইন্টারনেটে আসক্তি অসুস্থতা কি না কিভাবে বুঝবেন

ইন্টারনেট হচ্ছে বর্তমান সময়ের তথ্যের মহাউৎস। ইন্টারনেটের কল্যাণে আজ এ পৃথিবীটা তার সীমানা ছাড়িয়ে একটি গ্রামে পরিণত হয়েছে,দূরত্ব ও সীমানাকে মিশিয়ে দিয়ে বিশ্বকে বেঁধেছে একই সুতোই। আর মানব সমাজের জীবন যাত্রাকে করেছে সহজলভ্য। ইন্টারনেটের ব্যাপক জনপ্রিয়তার কারণে আজ বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ কমপিউটার নিয়ে বেশির ভাগ সময় কাটায় এবং সেই সময়টুকুর জন্য নিজেরাই মুল্য পরিশোধ করে। কমপিউটার ও ইন্টারনেট আজ আমাদের প্রাত্যহিক জীবনের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। ইন্টারনেটে কী আছে – সে প্রশ্নের উত্তরের চেয়ে কী নাই – তার উত্তর দেওয়া অনেক সহজ। ইন্টারনেটকে সম্পূর্ণভাবে উপেক্ষা করা এখন প্রায় অসম্ভব। সংবাদ, তথ্য, যোগাযোগ, কেনাকাটা, ব্যবসা-বানিজ্য, সোশ্যাল নেটওয়ার্ক, বিনোদন ইত্যাদি অনেক কিছুর জন্য মানুষ এখন ইন্টারনেটের উপর নির্ভরশীল। কিন্তু কেউ যদি ইন্টারনেটের উপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীল হয়ে পড়ে, ইন্টারনেটের কারণে যদি কারো স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বিঘ্নিত হয় এবং সিগারেট, মদ ও ড্রাগের মত ইন্টারনেটের প্রতি যদি কেউ আসক্ত হয়ে পড়ে তখনই সমস্যা। দেখা গেছে যে ৫-১০% ব্যবহাকারী ইন্টারনেট আসক্ত। এর সংখ্যা যে দিনদিন বাড়ছে তাতে কোন সন্দেহ নেই। এক কথায় ইন্টারনেট আসক্তিকে প্রকাশ করা বেশ কঠিন ব্যাপার। ইন্টারনেটকে কেন্দ্র করে মানুষের যে ব্যাপক কৌতুহল, সার্বক্ষণিক চিন্তা, অদমনীয় ইচ্ছা, ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া এবং অসংযত আচরণবোধ এসব কিছুকেই ইন্টারনেট আসক্তি বলা যায়।
কোন ধরনের লোকের ইন্টারনেটে আসক্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি ?
১) যারা আগে থেকেই অন্য কোন কারণে Anxietyতে ভোগছেন।
২) যারা বিষন্নতায় বা একাকিত্বে ভোগছেন।
৩) যারা ড্রাগ, এলকোহল, জুয়াখেলা এবং বিকৃত যৌন রুচি ও মানসিকতায় আসক্ত।
৪) টিনএজার – যারা রোমাঞ্চপ্রিয় ও সব কিছুতে অতি উৎসাহী।
৫)  শারীরিকভাবে যারা অলস ও ঘরকুনো।
৬)  যারা কোন কিছুকেই হালকাভাবে নিতে পারে না, সব কিছুতেই সিরিয়াস।
৭)  বাস্তব জীবনে যাদের বন্ধু-বান্ধব খুবই কম ও বিপদ-আপদে সাহায্য করার মত কেউ নেই।
৮)  যারা অসামাজিক, লাজুক এবং মানুষের সাথে মিশতে ভয় পায়।
৯)  যারা বাস্তব জীবনের সমস্যাকে এড়িয়ে চলতে চায়।

ইন্টারনেট আসক্তির প্রধান কারণগুলো:

১। কৌতুহল ও উৎসাহ – ইন্টারনেটে নতুন ব্যবহারকারীদের অনেকেই ব্যাপক উৎসাহের সাথে প্রায় সব লিঙ্কে ক্লিক করে দেখে সেখানে কী আছে। সাইট থেকে সাইটে ঘুরে ঘুরে নিত্য নতুন তথ্য-বিনোদনের আবিষ্কারে মোহগ্রস্ত হয়ে পড়ে। এভাবে অনলাইনে ঘন্টার পর ঘন্টা কাটিয়ে দেয়।
২। তথ্য নিয়ে হিমশিম খাওয়া – ইন্টারনেট এখন সব বয়সের ও সব পেশার লোকের জন্য এক বিশাল তথ্য ভান্ডার। পেশার কারণেই হোক বা সখের কারণেই হোক নতুন নতুন তথ্য সংগ্রহের নেশা একজন মানুষকে এমনভাবে পেয়ে বসে যে সে বেশিরভাগ সময় ক্রমাগত ওয়েব পেজ হাতড়িয়ে পার করে দেয়। আর এভাবেই সে নিজের অজান্তেই সব কিছু থেকে নিজেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলে।
৩। সাইবার পর্ণোগ্রাফী আসক্তি – এ ক্ষেত্রে একজন মানুষের মধ্যে ইন্টারনেটে প্রাপ্ত বয়স্কদের জন্য নির্ধারিত চ্যাট রুম এবং সাইবার পর্ণের প্রতি আকর্ষণ বিশেষভাবে বেড়ে যায়। তার চিন্তা-ভাবনায় স্থান করে নেয় এ ধরনের নগ্ন ও বিকৃত রুচির সাইটগুলো। সাধারণত প্রথমদিকে কৌতুহল থাকলেও বেশিরভাগ লোকই পরবর্তীতে এগুলোতে আর আকর্ষণ বোধ করে না। এসবের প্রতি কারো কৌতুহল ও আকর্ষণ যদি স্থায়ীরুপ লাভ করে তখনই সমস্যা।বর্তমান সময়ে পৃথিবীর সবচেয়ে লাভজনক ব্যবসার মধ্যে সাইবার পর্ণোগ্রাফী অন্যতম।
৪। কম্পিউটার আসক্তি – এ ক্ষেত্রে একজন ব্যক্তির কম্পিউটার গেম, কম্পিউটার প্রোগ্রাম, কম্পিউটার সেটিং প্রভৃতির প্রতি আকর্ষণ আর নির্ভরতা এমন পর্যায়ে চলে আসে যে, সারাক্ষণ সে ওগুলো নিয়েই সময় কাটাতে পছন্দ করে। দিনে একাধিকবার ডেস্কটপের ব্যাকগ্রাউন্ড, স্ক্রীন সেভার ইত্যাদি পরিবর্তন করছে, একই গেম বারবার দিনের পর দিন খেলার পরও বিরক্ত হচ্ছে না, প্রয়োজন থাক আর না থাক নতুন নতুন প্রোগ্রাম ইনস্টল/আনইনস্টল করছে। এধরনের লোক relax হয়ে বসে থাকতে পারে না, কমপিউটার নিয়ে কিছু একটা করতে হবেই।
৫। ভার্চুয়াল বন্ধুবান্ধব – ইন্টারনেটের সুবাধে দুর-দুরান্ত, দেশ-বিদেশের মানুষের মধ্যে সৃষ্টি হচ্ছে বন্ধুত্ব, প্রেম, ভালোবাসা। ব্লগ, ফোরাম, চার্টরুম, ফেইসবুক, টুইটার ইত্যাদিতে একজনের সাথে আরেকজনের পরিচয় হচ্ছে, বন্ধুত্ব হচ্ছে। সে কারণে ইমেইল, অনলাইন চাটিং, ফেসবুকে বন্ধুর তালিকা দিনদিন বড় হচ্ছে। সুতরাং যতই দিন যাচ্ছে ভার্চুয়াল বন্ধুবান্ধবদের সিডিউল দিতে অনলাইনে সময়ের পরিমানও বাড়ছে। আবার অনেকেই আছেন ডেটিং/ফ্রেন্ডশীপ সাইটের নিয়মিত ভিজিটর বা সদস্য, যারা জীবনসঙ্গী, যৌনসঙ্গী, প্রেমিক-প্রেমিকার সন্ধানে বেশিরভাগ সময় ইন্টারনেট হাতড়িয়ে পার করে দেয়।
৬। বিকল্প বিনোদন – ইন্টারনেটকে অনেকে বিকল্প বিনোদন হিসেবে বেছে নিয়েছে। গান, ভিডিও ক্লিপ, মুভি, নাটক, গেম, টিভি, ভিডিও, লাইভ খেলাধুলা ইত্যাদি অনেক কিছু এখন ইন্টারনেটে উপভোগ করা যায়। অনেকে এগুলোর প্রতি এত বেশি আসক্ত হয়ে পড়ে যে জীবনের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কাজকে অবহেলা করতে শুরু করে। নতুন নতুন গান, ভিডিও, মুভি সংগ্রহের জন্য দিনরাত ইন্টারনেট হাতিয়ে বেড়াচ্ছে। যত পায় আরও চায় – এভাবে প্রতিদিন ঘন্টার পর ঘন্টা অনলাইনে ব্যয় করছে যা একসময় আসক্তির পর্যায়ে চলে আসে।
৭। বাস্তব জীবনে সমস্যা – সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্না, আনন্দ-বেদনার এইসব দিনরাত্রি নিয়ে আমাদের জীবন। সব দুঃখ-কষ্টকে সবাই একইভাবে মোকাবেলা করতে পারে না। ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক এবং পেশাগত জীবনে সমস্যা আসতে পারে। অনেকে এইসব দুঃখ-কষ্ট ও সমস্যাকে ভুলে থাকার জন্য ইন্টারনেটকে বিকল্প হিসেবে বেছে নেয়। এভাবে বাস্তব জীবনের সমস্যাকে ভুলতে গিয়ে আরও একটি সমস্যায় পতিত হয়, যার নাম ‘ইন্টারনেট আসক্তি’।
৮। ভার্চুয়াল জগতে প্রচার ও সেলিব্রেটি – ইন্টারনেটে সহজে নিজেকে প্রচারের জন্য অনেক সুযোগ, যেমন নিজস্ব ওয়েবসাইট, ব্লগ, ফোরাম, চার্টরুম, ফেইসবুক ইত্যাদি। তাই অনেকে দিনরাত এইসব সাইটে সক্রিয় থাকতে চাই, অন্যান্য অনলাইন ইউজারের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য এরা সবসময় সব ধরনের চেষ্টা করে। এদের কার্যকলাপ ইতিবাচক বা নেতিবাচক উভয় ধরনের হতে পারে। এরা দৈনন্দিন জীবনের বিরাট একটি অংশ কাটিয়ে দেয় অনলাইনে। যখন অফলাইনে থাকে তখনও এরা অনলাইনের কার্যকলাপ ও চিন্তা-ভাবনায় মোহগ্রস্ত হয়ে থাকে। অনলাইনে সবাইকে তাক লাগানোর জন্য বা সেলিব্রেটি হওয়ার জন্য নিত্য নতুন আইডিয়া নিয়ে সবসময় ভাবতে থাকে, ফলে বাস্তব জীবন নিয়ে চিন্তাভাবনার আর সময় থাকে না।।
৯। প্রতারণা ও ধোকাবাজি- ইন্টারনেটে যেহেতু নিজের পরিচয় গোপন রেখে অনেক কিছু করা যায়, তাই এটা অনেকের কাছে ফন্দি-ফিকির ও প্রতারণার স্বর্গরাজ্য। অনেকে এসবের মাধ্যমে এক ধরনের আনন্দ পায়। এরা এসব উদ্দ্যেশ্যে এক ওয়েবসাইট থেকে আরেক ওয়েবসাইটে সারাক্ষণ ঘুরে বেড়ায় এবং অনেক সময় সাইবার ক্রাইমে জড়িয়ে পড়ে। সমস্যা ।বর্তমান সময়ে অনলাইনের মাধ্যমে ধোকা ওপ্রতারনার প্রবনতা সবচেয়ে বেশি|
১০। Status Update Anxiety (SUA) – ইন্টারনেটের কারণে সৃষ্ট নতুন মানসিক রোগ/সমস্যা সুয়া (SUA)। এ ক্ষেত্রে একজন ব্যক্তি তার পারিবারিক জীবন তো বটেই, বাস্তব জীবনের বন্ধুবান্ধব থেকেও বিছিন্ন হয়ে পড়ে। কেননা তার ধ্যান ধারণায় স্থান করে নেয় চ্যাট রুম, ব্লগ, ফোরাম, নিউজ গ্রুপ, ফেইসবুক, Twitter, Dopplr, My Space, Bedpost ইত্যাদির সুবাদে প্রাপ্ত ভার্চুয়াল জগতের নতুন নতুন বন্ধুবান্ধব। প্রতি মুহুর্তে ইন্টারনেটে নিজের দৈনন্দিন জীবনের প্রতিটি ঘটনা নিয়মিত অন্যদের সাথে শেয়ার করতে গিয়ে অনেকের মধ্যে সৃষ্টি হচ্ছে এক ধরনের মানসিক চাপ। তারা দৈনন্দিন জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপ তাৎক্ষণিকভাবে ইন্টারনেটে প্রকাশ করতে চাই এবং অন্যদের উত্তর বা প্রতিক্রিয়া জানতে অধৈর্য হয়ে পড়ে। ফলে তার পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে বিপর্যয় নেমে আসে। এরা ইন্টারনেট ছাড়া বেশীক্ষণ থাকতে পারে না। ধুমপানে অভ্যস্ত লোক যেমন ধুমপান করতে না পারলে চঞ্চল, বিষন্ন অথবা উত্তেজিত হয়ে ওঠে, তেমনি ইন্টারনেট ব্যবহার করতে না পারলে এদের অবস্থাও তাই হয়।
ইন্টারনেট আসক্তির লক্ষণগুলো:
১। আপনি কি ইন্টারনেট নিয়েই সারাক্ষণ চিন্তাভাবনা করছেন?
২। আগের অনলাইনের ঘটনাগুলো কিংবা পরবর্তীতে কী করবেন এসব চিন্তাই কি শুধু মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে?
৩। আপনি কি মনে করেছেন সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে ভালো ফল পেতে হলে আপনার ইন্টারনেটের প্রতি মনোসংযোগ আরো বাড়িয়ে দিতে হবে?
৪। আপনি কি সাংসারিক ও সামাজিকভাবে সমূহ ক্ষতির সন্মুখীন হয়েও ইন্টারনেটের নির্ভরতা কমাতে পারছেন না?
৫। আপনি কি যতটুকু সময় অনলাইনে ব্যস্ত থাকা যায় তার চেয়েও বেশিক্ষণ অনলাইন ব্যবহার করে থাকেন?
৬। আপনি ইন্টারনেট নির্ভরশীলতার ব্যাপারে আপনার আত্মীয়স্বজন বা বন্ধুবান্ধবের কাছে সবকিছু গোপন করে যাচ্ছেন অথবা মিথ্যা বলছেন?
৭। আপনি কি হালকা হওয়ার জন্য অথবা সব সমস্যা, দুঃখ-কষ্ট ভুলবার জন্য ইন্টারনেটকে বিকল্প ব্যবস্থা হিসাবে নিয়েছেন?
৮। আপনি যখন ইন্টারনেট ব্যবহার কমিয়ে আনা বা বন্ধ করার চেষ্টা করেন, সে সময় কি আপনি চঞ্চল ভাবপ্রবণ, বিষন্ন অথবা উত্তেজিত হয়ে উঠেন?
৯। আপনি কি ইন্টারনেট ব্যবহারের কারণে নিয়মিত ঘুমাতে পারছেন না?
১০। আপনি কি ইন্টারনেট ব্যবহারের কারণে শারীরিক ওজন কমা/বাড়া, মাথাব্যাথা, পৃষ্ঠবেদনা ইত্যাদি শারীরিক সমস্যা অনুভব করেন?
১১। আপনি কি ইন্টারনেটের প্রতি আপনার অদম্য আকর্ষণ কমিয়ে আনা বা ইন্টারনেট ব্যবহার নিয়ন্ত্রনে আনার একাধিক ব্যর্থ উদ্যোগ ইতিপূর্বে নিয়েছেন?
আপনি যদি উল্লিখিত এগারটির মধ্যে তিনটি লক্ষণও নিজের মধ্যে শনাক্ত করতে পারেন, তবে ধরে নেবেন আপনি ইন্টারনেটের অপব্যবহার করছেন। যদি পাঁচটি লক্ষণও নিজের মধ্যে শনাক্ত করতে পারেন, তবে ধরে নেবেন আপনার মাঝে ইন্টারনেট আসক্তি কাজ করছে।
প্রতিকার
১)  চিত্ত বিনোদনের অন্য উপায়গুলোর মাঝে নিজেকে পরিব্যপ্ত করা।
২)  পরিবারের সাথে দায়িত্বশীল ব্যক্তি হিসেবে আরো বেশী সময় দেয়া।
৩)  নিজের প্রকৃত দুঃখ-কষ্ট-সমস্যাগুলোকে চিহ্নিত করা এবং তা দুর করার জন্য সচেষ্ট হওয়া।
৪)  নিজের সমস্যাগুলো নিজের মাঝে গুটিয়ে না রেখে আত্মীয়স্বজন আর বন্ধুবান্ধবের সাথে আলোচনা করা।
৫) ইন্টারনেট প্রযুক্তিকে নিজের সহায়ক কাজেই একমাত্র ব্যবহার করা, নির্ভরতা যেন পারিবারিক বা সামাজিক গন্ডিকে অতিক্রম না করে।
৬) ড্রাগ, এলকোহল বা অন্য কোন মানসিক সমস্যা থাকলে তার চিকিৎসা করা।
৭) বাস্তব জীবনে বেশি মানুষের সাথে ভালো সম্পর্ক গড়ে তোলা। তখন ইন্টারনেটের সাথে সম্পর্ক কম থাকলেও চলবে।
৮) অসামাজিক, লাজুক বা ঘরকুনো স্বভাব থাকলে তা পরিবর্তন করা।
৯) প্রয়োজনে মানসিক বিশেষজ্ঞের দ্বারস্থ হয়ে চিকিৎসা নেয়া।
১০) ধাপে ধাপে ইন্টারনেট ব্যবহারের সময় ও গুরুত্ব কমিয়ে আনা:
ক) ইন্টারনেটে যেসব বিষয় ও সাইটে আপনি সময় কাটান সেগুলোকে তিন ভাগে ভাগ করুন: দরকারী, কম দরকারী এবং বেদরকারী। প্রথম দিকে বেদরকারীগুলো বাদ দিন, এরপরে কম দরকারীগুলো বাদ দিন এবং তারপরে দরকারীগুলোতেও সময় কমিয়ে আনুন।
খ) যে সময় ইন্টারনেট ব্যবহারের পরিবর্তে অন্য কিছু করার সুযোগ থাকে তখন নেট ব্যবহার করবেন না। নেটে বসার আগেই সময়ের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিন, সেই সময়টুকুর এক সেকেন্ড বেশিও ইন্টারনেটে থাকবেন না। এ ব্যাপারে দৃঢ় সংকল্প থাকতে হবে। মনে রাখবেন জীবনটা আপনার, সুতরাং আপনার লাইফস্টাইল কী হবে সে সিদ্ধান্তও আপনাকেই নিতে হবে।
ইন্টারনেটের সুফল ও ইতিবাচক দিক অনেক যা এখানে লিখে শেষ করা যাবে না। কিন্তু সেই সুফল পেতে যেন ব্যক্তিগত, পারিবারিক এবং কর্মজীবনে নতুন কোন সমস্যার সৃষ্টি না হয় আমাদেরকে সেদিকে নজর রাখতে হবে। ইন্টারনেটের ভালো দিকগুলো যেমন আমাদের জীবনকে আরো সহজ ও গতিময় করতে পারে, তেমনি এর খারাপ দিকগুলো আমাদের জীবনকে করতে পারে আরো জটিল ও বেদনাময়। “Prevention is better than cure.” সুতরাং শুরু থেকেই সাবধান। নতুন যে কোন কিছুতেই শুরুর দিকে মানুষের ব্যাপক কৌতুহল-উদ্দীপনা থাকে। একটা সময়ে এসে আবার সব স্বাভাবিক হয়ে যায়। ইন্টারনেটও এর ব্যতিক্রম নয়। কিন্তু কারো উৎসাহ-উদ্দীপনা যদি দিনদিন বাড়তে থাকে তখনই ভাবতে হবে এটা ইন্টারনেট আসক্তির পূর্ব লক্ষণ কিনা। ইন্টারনেট ব্যবহারের স্বাভাবিক সময়সীমা কতটুকু, তা নির্দিষ্ট করে বলা মুশকিল। কারণ ব্যক্তি বিশেষের পেশা ও প্রয়োজনের উপর ভিত্তি করে তা বিভিন্ন হতে পারে।

তথ্যসূত্র:
অস্বভাবিক মনোবিজ্ঞান,মানসিক ব্যাধির লক্ষণ,কারণ ও আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি-নীহাররঞ্জন সরকার।
মনের অসুখ-ড:শিবেন সাহা
ও ইন্টারনেট
 

ফেসবুক এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা Mark Zuckerberg এর জীবনী

facebook
ফেসবুক এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা,মার্ক Mark Elliot Zuckerberg মে 14, 1984 সালে, নিউ ইয়র্ক এর Dobbs ফেরির, একটি সুখী, সুশিক্ষিত পরিবারের মধ্যে জন্মে ছিলেন. তাঁর পিতা, Edward Zuckerberg,বাড়ির সাথে সংযুক্ত একটি স্থানে দাঁতের চিকিত্সার অনুশীলন করতেন.তাঁর মা, Karen,তার চার শিশু-Mark,Randi,Donna এবং Arielle এর জন্মের আগে একটি মনোচিকিত্সক হিসেবে কাজ করতেন.
Zuckerberg প্রারম্ভিক বয়সে কম্পিউটারের প্রতি অগর্হী ছিলেন;তার বয়স যখন 12 তখন তিনি Atari BASIC ব্যবহার করে "Zucknet" নামে একটি বার্তা প্রোগ্রাম তৈরি করেন.তাঁর পিতা তার দাঁতের অফিসে প্রোগ্রামটি ব্যবহৃত করত, যাতে রিসেপশনিস্ট নতুন রোগীর বিষয়ে তাকে yelling ছাড়াই জানতে পারে.পরিবারের সবাই এ Zucknet গৃহ মধ্যে যোগাযোগ করতে ব্যবহৃত করতো.তিনি শুধু মজার জন্য একট কম্পিউটার গেম তরী করেন.
মার্ক এর কম্পিউটারের দ্রুত বেড়ে উঠা দেখে তার বাবা ডেভিড নিউম্যানকে কম্পিউটারের গৃহশিক্ষক রাখেন, তিনি সপ্তাহে একবার মার্ক এর সথে কাজ করতেন.নিউম্যান পরে জানান যে, এটা কঠিন ছিল এগিয়ে যাওয়া দৈত্য,যে শুরু কাছাকাছি এই একই সময় মার্সি কলেজ স্নাতক কোর্স যাবার কথা বলে.
Zuckerberg পরে প্রথম Exeter একাডেমী, অ্যান এক্সক্লুসিভ নিউ হ্যাম্পশায়ার মধ্যে প্রস্তুতিমূলক স্কুল পড়াশোনা করেন.সেখানে প্রতিভা দেখিয়েছেন, স্কুলের দলের অধিনায়ক হয়ে উঠছে. তিনি সাহিত্যে পারদর্শী হয়ে ওঠেন, ক্লাসিক একটি ডিপ্লোমা অর্জন করেন. তবুও Zuckerberg রয়েছে কম্পিউটার মুগ্ধ, এবং নতুন প্রোগ্রাম উন্নয়নশীলন এর কাজ অব্যাহত করেছেন. যখন তিনি হাই স্কুলে তখন, তিনি একটি সঙ্গীত সফটওয়্যার Pandora তরী করেন, যা Synapse প্রথম সংস্করণ.AOL এবং মাইক্রোসফটসফ্ট ছড়াও আরো অনেক প্রতিষ্ঠান সফটওয়্যারটি কেনার ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করে,তিনি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন.
2002 Exeter থেকে স্নাতক করার পরে, Zuckerberg হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম নথিভুক্ত করেন. তার আইভি লিগের দ্বিতীয় প্রতিষ্ঠা বার্ষিকর সময়ে তিনি go-to campus software ডেভেলপার হিসেবে খ্যাতি অর্জন করে নিয়েছিলেন. সেই সময় তিনি একটি CourseMatch নামক প্রোগ্রাম বানন,যা সাহায্য ছাত্র তাদের অন্যান্য ব্যবহারকারীদের কোর্স নির্বাচন ভিত্তিতে ক্লাস নির্বাচন করতে. তিনি Facemashও তৈরী করেন,যেখনে একটি বেশি আকর্ষণীয় ছবিকে ভোট দিতে হত এবং এটা ছিল ক্যাম্পাসে দুটি ছাত্র এবং অনুমোদিত ব্যবহারকারীদের ছবির তুলনা. প্রোগ্রামটি ব্যাপক জনপ্রিয় হয়, কিন্তু পরে স্কুল প্রশাসন বন্ধ করে দেয়.
তার পূর্ববর্তী প্রকল্পের,তিন জন ছাত্র-Divya Narendra, and twins Cameron and Tyler Winklevoss, একটি সামাজিক নেটওয়ার্কিং সাইট যারা নাম হার্ভার্ড সংযোগের জন্য একটি ধারণা কাজ করার গুঁজন নির্দেশক. এই সাইটি নকশা করা হয় হার্ভার্ড ছাত্র নেটওয়ার্ক থেকে তথ্য ব্যবহার করে একটি হার্ভার্ড অভিজাত জন্য ডেটিং সাইট নির্মাণ করা. Zuckerberg প্রকল্প সাহায্য করতে রাজী হয়, কিন্তু শীঘ্রই তা ছেড়ে দিয়ে তার বন্ধু Dustin Moskovitz, Chris Hughes and Eduardo Saverin সাথে নিজের সামাজিক নেটওয়ার্কিং সাইট এর জন্য কাজ করেন.
Zuckerberg এবং তার বন্ধুরা একটি সাইট বানায় যা অনুমতিপ্রাপ্ত ব্যবহারকারীরা তাদের নিজস্ব প্রোফাইল,ছবি আপলোড, এবং অন্যান্য ব্যবহারকারীদের সাথে যোগাযোগ করতে পারে. প্রথমে হার্ভার্ড এর একটি dorm কক্ষে The Facebook নামে সইটি জুন 2004 পর্যন্ত চলানো হয়. তার দ্বিতীয় বার্ষিক পর, Zuckerberg কলেজ ছেড়ে চলে যায় Palo Alto, ক্যালিফোর্নিয়া ফেসবুক পূর্ণ সময় দেওয়ার জন্য. 2004 এর শেষে, ফেসবুক ছিল 1 মিলিয়ন ব্যবহারকারী.
2005 সালে, Zuckerberg এর Enterprise উদ্যোগ মূলধন দৃঢ় Accel বয়স থেকে একটি বিশাল অনুমোদন পেয়েছে. Accel নেটওয়ার্ক, যা সময় উন্মুক্ত ছিল কেবল আইভি লিগে ছাত্রদের মধ্যে $ 12.7 মিলিয়ন. Zuckerberg এর কোম্পানি তারপর অন্যান্য কলেজ, উচ্চ বিদ্যালয় এবং আন্তর্জাতিক স্কুলে অধিকার প্রদান করে, অধিক 5.5 মিলিয়ন ব্যবহারকারীদের ডিসেম্বর 2005 সাইটের সদস্যপদ পায়. অন্যান্য কোম্পানি, যারা জনপ্রিয় সামাজিক হাব সঙ্গে advertize করতে চেয়েছিল তা যোগাযোগ করতে শুরু করে.Zuckerberg বিক্রি করতে চায়নি, তাই সে Yahoo! এবং এমটিভি নেটওয়ার্ক কোম্পানি প্রস্তাব প্রতাখ্যান করেন. বরং, সে সাইট সম্প্রসারণ করার কথা বলেন, এবং projectটি ডেভেলপারগণদের দেন এবং আরও বৈশিষ্ট্য যোগ করেন.
Zuckerberg এর কাজ ভালই হচিছল, কিন্তু 2006 সালে ব্যবসা সে প্রথম বড় বাধার সম্মুখীন হলো. হার্ভার্ড সংযোগ স্রষ্টাদের দাবি Zuckerberg তাদের ধারণা চুরি করে, এবং সফ্টওয়্যার ডেভেলপার তাদের ব্যবসার লোকসান দাবি করে. Zuckerberg রক্ষণাবেক্ষণ যে ধারনা দুই সামাজিক নেটওয়ার্কের খুব বিভিন্ন ধরনের উপর ভিত্তি ছিল কিন্তু, পরে আইনজীবীরা Zuckerberg এর রেকর্ড অনুসন্ধান করে, incriminating তাত্ক্ষণিক বার্তা প্রকাশ যে ইচ্ছাকৃতভাবে Zuckerberg হার্ভার্ড সংযোগের অপহৃত করে এবং তার বন্ধুদের ফেসবুক ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য দেওয়া.
Zuckerberg পরে incriminating বার্তা জন্য ক্ষমাও চায়, বলছে তাদের regretted. "যদি আপনি উপর থেকে একটি সেবা যা প্রভাবশালী বিল্ড যাচ্ছে এবং যে কিছু মানুষের অনেক আস্থা, তাহলে পূর্ণতাপ্রাপ্ত অধিকার, দরকার?" তিনি নিউ ইয়র্কারের সাক্ষাৎকারে বলেন. "আমি এখন পূর্ণবয়স্ক এবং অনেক কিছু শিখেছি."
Zuckerberg এখন অন্য ব্যক্তিগত চ্যালেঞ্জ সম্মুখীন হন যখন 2009 লেখক বেন Mezrich দ্বারা বই The Accidental Billionaires. Mezrich জন্য ব্যাপকভাবে সমালোচিত ছিল তার পুনরায় কহন Zuckerberg এর গল্প, যা উদ্ভাবিত দৃশ্য, Re-কাল্পনিক সংলাপ এবং কল্পিত অক্ষর ব্যবহৃত. তথাপি কিভাবে সত্য থেকে জীবনের গল্প ছিল, Mezrich থেকে চিত্রনাট্যকার আরন Sorkin থেকে উপাখ্যান অধিকার বিক্রি পরিচালিত, এবং সমালোচকদের দ্বারা প্রশংসিত চলচ্চিত্র আট একাডেমি পুরস্কার মনোনয়ন পেয়েছেন.
Zuckerberg ফিল্ম এর আখ্যান থেকে দৃঢ় আপত্তি করেন.
ফোর্বস পত্রিকা অনুসারে, Zuckerberg মূল্য প্রায় 6.9 বিলিয়ন হয়. তিনি ক্যালিফোর্নিয়ায় Palo Alto, একটি শালীন ভাড়া বাড়িতে বসবাস করেন চ্যান সঙ্গে,. মার্চ 2011 সালে, অবশেষে দম্পতি ফেসবুক উপর তাদের statuses পরিবর্তিত "In a Relationship."

আমার ব্লগ Copyright © 2011 - 2015 -- Blog Author Kalyan Kundu